"ভালোবাসার মৃত্যু নেই" ~ ঝুমুর

নীলাঞ্জনা মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়লো সোফাতে। ওর মাথায় কিছুই আসছে না। শুধু অপলক দৃষ্টি তে তাকিয়ে আছে নীলাদ্রির ছবির দিকে।
         নীলাঞ্জনা কে এভাবে বসে থাকতে দেখে রীনাদেবী বললেন তুমি কি কিছুই জানতে না? তোমাকে দেখে মনে হচ্ছে তুমি নীলুর কথাটা প্রথম শুনছো বলেই কেঁদে ফেললেন। ততক্ষনে জয়ন্তবাবু চলে এসেছেন ঘরে। এসে বললেন তুমি কান্নাকাটি করোনা রীনা, ডাক্তার বাবু বলেছেন এতো কান্নাকাটি করলে ওনার কিছু করার থাকবেনা। তুমিও যদি চলে যাও তাহলে আমি কি নিয়ে বাঁচবো বলো। সদ্য হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরে এসেছো, শান্ত হও। নীলাঞ্জনার সঙ্গে আসা রিনিতা এবারে জিজ্ঞেস করলো আচ্ছা কাকু ঘটনাটা কবে ঘটেছে? জয়ন্ত বাবু বললেন বলছি সব তোমার বান্ধবী কে একটু জল দাও, শান্ত হয়ে বসো সব বলছি আর তোমাদের কথাও শুনছি। রিনিতা নীলাঞ্জনার দিকে জলের বোতল এগিয়ে দিয়ে বললো নে জল খা একটু তারপর সব বল কাকু কাকিমাকে। নীলাঞ্জনা মুখে কিছু বলেনা হাতে বোতলটা নেয় কিন্তূ জল খেতে পারেনা কেঁদে ফেলে রিনিতা কে জড়িয়ে ধরে। জয়ন্ত বাবু এসব দেখে নিজেও কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েছেন। কাকে সামলাবেন, রীনাদেবীকে, নীলাঞ্জনা কে নাকি নিজেকে। কয়েক মিনিট কোনো কথা নেই কারো মুখে। এরপর নীরবতা ভেঙে জয়ন্ত বাবু বললেন আচ্ছা নীলা তুমি বলতো নীলু কবে থেকে তোমার সাথে যোগাযোগ শুরু করে? নীলাঞ্জনা মুখ তুলে বলে ওইতো ৩০শে এপ্রিল ২০২০ ও আমাকে সোশ্যাল মিডিয়া তে মেসেজ করে জানতে চায় কেমন আছি। প্রথমে কথা বলতে না চাইলেও আমিও ওকে জিজ্ঞাসা করি ও কেমন আছে।ভালো মন্দ জানতে চাই। ও জানায় এমনি ভালো কিন্তূ লক ডাউন এর জন্য অফিস বন্ধ কাজ কর্ম নেই দিনরাত একা একা বদ্ধ ঘরে। তাছাড়া করোনার জন্য পৃথিবী জুড়ে যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে তাতে ও নিজেও আতঙ্কিত তাই সে আজ নীলাঞ্জনা কে আজ মেসেজ করেছে। আরো বলে অনেক দিন আগেই ও দেখেছে কিন্তূ যোগাযোগ করেনি। কেননা এখন নীলাঞ্জনা বিবাহিত জীবনে সুখী তার স্বামী ও ছেলেকে নিয়ে তাই সেখানে ও কোথাও প্রবেশ করতে চায়নি। কিন্তূ করোনার করাল গ্রাসে যেভাবে মানুষের প্রাণ যাচ্ছে তাতে ও শেষ একবার অন্তত সে তার নীলাঞ্জনার সাথে কথা বলতে চায়।

              এবারে নীলাঞ্জনা ও নীলাদ্রি সম্পর্কে একটু বলে নেওয়া যাক। ব্যাপারটা শুরু হয়েছিল অনেক আগে থেকে। ক্লাস ইলেভেন এ পড়ার সময় ইংরেজি টিউশন এ প্রথম চার চোখ এক হয়েছিল। দুজনেই শান্ত প্রকৃতির ছিল। শুধু কথা শুরু হতেই কয়েক দিন লেগে গিয়েছিলো। তবে চোখে চোখে কথা হয়তো প্রথম দিন ই শুরু হয়েছিল। তবে সেটা সবার অগোচরে। ধীরে ধীরে ওদের কথা শুরু হয়, সেটা প্রথম নীল শুরু করেছিল। পাঁচফুট দশ ইঞ্চি উচ্চতার সুদর্শন নীলাদ্রি কে দেখে নীলাঞ্জনারো মনে ধরেছিল তবে সেকথা প্রকাশ করেনি।ধীরে ধীরে ওদের মধ্যে ওদের মধ্যে বন্ধুত্ব বাড়তে থাকে। নীলাঞ্জনার পিসতুতো দাদাও ওদের সাথেই পড়তো সুতরাং বন্ধুত্ব তার সাথেও ছিল। এভাবেই একসাথে উচ্চমাধ্যমিক পাশের পর সবাই আলাদা আলাদা জায়গায় ভর্তি হয়ে যায় কলেজে। নীলাঞ্জনা আর নীল দুজনেই ইংরেজি নিয়ে আনন্দচন্দ্র কলেজ এ ভর্তি হয়। নীলাঞ্জনার বাড়ি জলপাইগুড়ি শহরের শান্তিপাড়া এলাকায় আর নীলাদ্রির বাড়ি রায়কত পাড়াতে। ওদের আদি বাড়ি বারাসাত। ওর বাবা চাকরি সূত্রে জলপাইগুড়ি তে থাকার কারণে এখানেই বাড়ি করেছে।
                         নীলাদ্রি শান্ত স্বভাবের হলেও একটু খামখেয়ালি প্রকৃতির।যখন মাধ্যমিক পরীক্ষা দেয় পরীক্ষার পর হটাৎ একদিন কাউকে কিছু না বলেই বেরিয়ে পড়েছিল। তারপর কিছুদিন এদিক ওদিক ঘুরে ঠাকুমার কাছে বারাসতে উপস্থিত হয়। তারপর ঠাকুমাকে ম্যানেজ করে সেবারের মতো বাবার মারের হাত থেকে রক্ষা পায়। অপরদিকে নীলাঞ্জনা মাঝারি উচ্চতার মোটামুটি গায়ের রং ফর্সার দিকে, তবে খুব মিষ্টি মুখটা, তবে একবার দেখলেই যে কেউ প্রেমে পড়বে তেমন কোনো ব্যাপার নেই।
                    যাইহোক কলেজে পড়তে পড়তে থার্ড ইয়ার এ গিয়ে নীলাঞ্জনার বিয়ের কথা বার্তা শুরু হয়েছিল। ভালোবন্ধু হবার সুবাদে সেসব কথা নীলাদ্রির ও কানে আসে। ও একদিন বাড়িতে বন্ধুদের সবাইকে নিমন্ত্রণ করে। সবার সাথে নীলাঞ্জনা  ওর দাদা অরিন্দম ও যায় নীলাদ্রির বাড়িতে। নীলাদ্রির মা সবার সাথে কথা বলেন সবাইকে রান্না করে খাওয়ান। এর পর নীলাঞ্জনা একটা ব্যাপার খেয়াল করে অজানা কোনো এক কারণে ওর সাথে অরিন্দম কথা বলেনা। যে দাদার সাথে ওর এতো বন্ধুত্ব সে কথা বন্ধ করে দিয়েছে। শিলিগুড়ি তে পরীক্ষা দিতে গিয়ে ও ব্যাপারটা বুঝতে পারে বেশি করে। এরমধ্যে পরীক্ষা শেষ হলে হটাৎ করে আর নীলাদ্রির কোনো খোঁজ নেই। কোথায় চলে যায় কাউকে কিছু না বলে। কেউ জানেনা কোথায় গিয়েছে। ফোন করলে ফোন ও ধরে না। প্রথম প্রথম নীলাঞ্জনা অনেক চেষ্টা করে যোগাযোগ করার কিন্তূ বুঝতে পারে নীলাদ্রি যোগাযোগ রাখতে চাইছে না। ও জানতে পারে নীলাদ্রি হায়দ্রাবাদ এ আছে। আর ওর বাবা মা বারাসাত চলে গিয়েছে। তাই যোগাযোগএর আর চেষ্টা না করাই ভালো। কেনো সবার সাথে যোগাযোগ ছিন্ন করলো সেটা নীলাঞ্জনা আজও বুঝতে পারেনি।
                 এরপর নীলাঞ্জনার বিয়ে হয়ে যায়। রণজয় এর সাথে আর অরিন্দম ও এখন আবার বোনের সাথে কথা বলে আগের মতোই।এরপর কেটে গিয়েছে দশটি বছর। নীলাঞ্জনার স্বামী পুত্র কে নিয়ে সুখের সংসার।হটাৎ করোনার গ্রাসে গোটা পৃথিবী, সময় যেন থমকে গিয়েছে। নীলাঞ্জনার স্বামী রণজয় উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মচারী। ভীষণ ভালো মানুষ। সম্পর্ক টা তাদের মধুর হলেও বন্ধুত্ব টা বোধহয় হয়নি। তিনি সারাদিন অফিসের কাজ সমাজসেবা এসব নিয়েই ব্যস্ত থাকেন। বৌ নামক বস্তূ টাকে আলাদা করে সময় দেওয়ার যে প্রয়োজন আছে সেটা তার মাথায় আসেনা কখনো। আর এখন তো আরো ব্যস্ত। সকাল সাড়ে আটটার মধ্যে স্নান খাওয়া সেরে বেরিয়ে পড়েন, তারপর সারা শহর ঘুরে কার কি সমস্যা সেসব মিটিয়ে ফিরতে ফিরতে রাত নটা।
                 লকডাউন এর জন্য নীলা কে একাই বাড়ির কাজ সামলাতে হয়। সারাদিন বাড়িতে ছোট্ট ছেলেটা কে নিয়ে। সে ছাড়া আর কথা বলার কোনো মানুষ নেই। এমন পরিস্থিতি তে নীলাদ্রির আগমন ঘটে। তবে সশরীরে নয়। যেটা আগেই নীলার মুখ থেকে শুনেছেন। রোজ ই সকাল বেলা নীল মেসেজ করে বা ফোন করে। কাজের ফাঁকে ফাঁকে নীলা কথা বলে।এতো বছরের জমানো কথা দুজনের শেষ হতে চায়না। নীলাদ্রি নীলাকে বলে তুই তো আরো কিছুদিন আমার জন্য অপেক্ষা করতে পারতিস হটাৎ বিয়ে করে নিলি। নীলা বলে তুই কি আমাকে বলে গিয়েছিলি, বলিসনি তাহলে থাকবো কেনো। কখনো দুজনে ঝগড়া করে কখনো বা অতীতে কাটানো সময়কে মনে করে স্মৃতি রোমন্থন করে। এভাবেই অনেকদিন কেটে যায়। ওরা ঠিক করে পরিস্থিতি ঠিক হলে সব বন্ধুরা সবাই মিলে একসাথে দেখা করবে সময় কাটাবে। নীলাদ্রি বলে যে কজনই হোক সবাই একসাথে অবশ্যই হবো। নীলাঞ্জনার ইচ্ছে হলেও বলতে পারেনা যে তুই বাড়িতে আসিস। আসলে মনের ভিতরের সেই সুপ্ত ভালোলাগাটা হয়তো এখনো একই রয়ে গেছে। এরমধ্যে নীলাদ্রি অসুস্থ হয় ওর জ্বর আসে। নীলাঞ্জনা অস্থির হয়ে পড়ে সব সবসময় খবর নেয় ওর কখন কি খাবে কি করবে নিজের মতো বলতে থাকে। এরপর সুস্থ হয় নীল। মাঝে দুএকদিন কথা না হলে নীলাঞ্জনা ব্যস্ত হয়ে পড়ে ফোন না এলে কথা না হলে ও রাগ করে। সব যেন ফাঁকা লাগে। পরে যখন নীলাদ্রি ফোন করে নীলাঞ্জনা রাগ দেখায়। নীলাদ্রি গান শোনায় "আমায় প্রশ্ন করে নীল ধ্রুব তারা, আর কত কাল আমি রব দিশাহারা" কখনো আবার "ভুলিনি তো আমি তোমার মুখের হাসি"।
           দিন কাটতে থাকে বলো বছর তিনেক পর, পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক। পূর্ব কথা মতো ওরা একটা দিন ঠিক করে তিস্তা পাড়ে দেখা করার। নীলাদ্রি সবাইকে জানায়। নীলাঞ্জনা সময় মতো যায় তিস্তাপাড়ে, নীলাদ্রি আগেই পৌঁছে গিয়েছিলো। নীলাদ্রি একটা সাদা রঙের শার্ট আর ডেনিম জিন্স পরে এসেছে, আর নীলাকে বলেছিলো সে যেন রানী জামদানি টা পরে আসে। ওই রঙের শাড়ি তে সামনে থেকে দেখার খুব ইচ্ছে। সেই মতো নীলাঞ্জনা রানী জামদানি র সাথে মুক্তোর গয়না পরে এসেছে। আর কেউ এখনো আসেনি। দুজনে এতো দিন পর দেখা ফোন এ এতো কথা বললেও এখন যেন একটু অন্যরকম। হটাৎ নীলাদ্রি বলে আমি কি তোর হাত টা একটু ধরতে পারি। নীলাঞ্জনা কিছু না বলে হাত বাড়িয়ে দেয়। নীলাদ্রি হাত ধরলে একটা অদ্ভুত শিহরণ জাগে। অদ্ভুত স্পর্শ, নীলাদ্রি বলে চল একটু হাঁটি যদি আর কখনো তোকে এতো কাছে না পাই। দুজনে হাত ধরে হাঁটতে থাকে, কিছু দূর চলার পর রাস্তার পাশের একটি ক্যামেলিয়া গাছ থেকে একটি ফুল ছিঁড়ে নীলাদ্রি নীলাঞ্জনার চুলে গুঁজে দেয়। দিয়ে নীলাঞ্জনার দিকে তাকিয়ে বলে তোকে আজ অদ্ভুত সুন্দর লাগছে নীলা। তবে নীলের এখনকার তাকানো আর আগের সেই চাহনি দুটোয় কোনো মিল নেই। নীলের চোখ বরাবরই সুন্দর তবে আজ যেন ওকে আরও বেশী সুন্দর লাগছে। আর এই কণ্ঠস্বর যা ক্লাস ইলেভেন এর টিউশন এ  প্রথম শুনে বুকের ভেতর তোলপাড় হয়েছিল এখনো একই আছে। নীল বলে তোকে আমি যেমন ভাবে দেখতে চেয়েছিলাম আজ তোকে সেভাবেই পেয়েছি এই বলে সে নীলাঞ্জনা কে বুকে জড়িয়ে ধরে তারপর আস্তে আস্তে নিজের ঠোঁট নীলাঞ্জনার ঠোঁটে ডুবিয়ে দেয়, সেই স্পর্শে নীলাঞ্জনা নিজেকে ছাড়িয়ে ছিটকে সরে আসে আর বলে এ হয়না নীল তুই ভুলে যা আমাকে ভুলে যা। বলে দৌড়ে সেখান থেকে বাড়ি চলে আসে। সে ভাবে কি করে এতো কাছে চলে গেলাম। না আর কখনো ওর সাথে কথা বলবো না। ফোন হাতে নিতেও ভয় পায়। 
                   পরে রাতে দেখে নীল মেসেজ করেছে। সরি রে নীলা আজকের জন্য। তবে সত্যি বলছি আর কখনো তোর কাছে আসবো না। তোর আমার সঙ্গ হয়তো এই টুকুই ছিল। তোকে কতদিন কতকিছু বলতে চেয়েছি কিন্তূ মুখচোরা ছিলাম তাই মনের কথা কখনো বলতে পারিনি রে তবে আজ যেটুকু পেয়েছি ওতেই আমার শান্তি। আর ফিরবো নারে। 
                  এরপর কেটে গিয়েছে কয়েকমাস। নীলাঞ্জনা রোজ ফোন এ দেখে কোনো মেসেজ বা ফোন এসেছে কিনা। ইতিমধ্যে রণজয় এর ট্রান্সফার হয়েছে কলকাতায়। ওরা এখন কলকাতায় থাকে।সেদিনের পর থেকে যেন নীলাদ্রি ওর মনে আরও বেশী করে জুড়ে গিয়েছে। কলকাতায় যাবার মাস ছয়েক পরে হটাৎ নীলের মেসেজ। নীল লিখেছে ওর মা অসুস্থ ICU তে আছে। নীলা আবার কথা বলে রোজ খবর নেয়। নীলাদ্রি বলে একটু দেখিস আমার মা কে হয়তো তার জন্যই আমাদের সংসার হয়নি, আমি সেই সময় কি করা উচিৎ নির্ধারণ করতে পারিনি বা বয়স কম হওয়ায় সাহসে কুলায়নি। তাছাড়া তুই কিভাবে নিবি ব্যাপারটা সেটাও বুঝিনি তুই একটু দেখিস মা কে, এটুকু বুঝেছি তুই ও ভালোবাসটিস। দেখিস মা কে। এরপর আর কখনো ফোন এ পায়নি নীলাদ্রিকে। না মেসেজ না ফোন। ওই নাম্বার এ ফোন করলে ভুল নাম্বার বলে।
            নীলাঞ্জনা রিনিতা কে সব জানায়। রিনিতা বলে চলে একবার ওদের বাড়ি যাই দেখা করে খোঁজ নি। তুই তো জানিস ওদের বাড়ির ঠিকানা। নীলাঞ্জনা রাজি হয় রণজয় কে সব খুলে বলে। রণজয় প্রথমএ রাগ করলেও পরে বলে তোমরা দুই বান্ধবী যাও। সেই কারণেই আজ ওরা দুই বান্ধবী এসেছে নীলাদ্রি দের বাড়ি। কিন্তূ বাড়িতে ঢুকেই বসার ঘরে নীলাদ্রির ছবিতে মালা দেখে নীলাঞ্জনা ভেঙে পড়েছে।
                   এরপর নীলাদ্রির বাবা বলেন তুমি যে তারিখ বললে যেদিন তোমাকে প্রথম মেসেজ করে সেদিন ই নীলু করোনা তে মারা গিয়েছে। লকডাউন থাকার জন্য আমরা সেখানে তখন যেতেও পারিনি।
                          অর্থাৎ এই কয়েকবছর ধরে নীলাঞ্জনা যে সুখ দুঃখ হাসি কান্না ভালোলাগা ঝগড়া যা করেছে সবটা নীলাদ্রির অশরীরী আত্মার সাথে। কিছুতেই নীলাঞ্জনা বিশ্বাস করতে পারছে না একটা মানুষ যেভাবে তার ভালোবাসার মানুষের সাথে কথা বলে আবদার করে সব সে করতো। সে বলার আগে মনের কথা বুঝে যেত। তারপর তিস্তা পাড়ে দেখা হওয়া সবটাই নীলাঞ্জনা জানায়। রীনাদেবী কেঁদে ওঠেন বলেন আমার ছেলের কোনো ইচ্ছেই আমি পূরণ করতে পারিনি নীলা। ছেলের কাছে পরপারে গিয়ে ক্ষমা চাইবো পারলে তুমিও আমাকে ক্ষমা করে দাও, আমার জন্যই তোমরা এক হতে পারোনি। আমাকে একটু সময় দিলে এটা হতোনা ছেলেটা আমার বিদেশ বিভূইতে একা থাকতো না আর আমার কোল এভাবে ফাঁকা হত না। নীলাঞ্জনা রীনাদেবীকে জড়িয়ে ধরে বলে আমি আছি তো তোমাদের কাছে তোমাদের নীলের নীলা।
              দুজনের কাছের মানুষ নীল সে হয়তো সব ই দেখছে। তবে এরপর আর কখনো নীল আসেনি নীলার কাছে। এরপর থেকে নীলাঞ্জনা মাঝে মাঝে দেখতে আসে নীলের মা, বাবা কে। কেননা নীল বলেছে নীলাকে সে যেন তার মা বাবা কে একটু দেখে, সেকথা সে কি করে ফেলবে।রণজয় আর আপত্তি করেনা দুয়েকবার সে নিজেও এসেছে নীলা আর ছেলেকে নিয়ে।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

"ঝঞ্ঝাট" ~ অমিত চাকী

"প্রিয় শীত" ~ অমিত

"শেষ বসন্ত অপেক্ষার কাল" ~ ঝুমুর