পোস্টগুলি

"শেষ বসন্ত অপেক্ষার কাল" ~ ঝুমুর

ছবি
বর্ষ শেষে চৈত্র এসেছে পুনরায় সাথে নিয়ে নতুনের আবাহন। সূর্যের প্রখর তাপে ধরিত্রী আজ তপ্ত। তাই আজ সে অপেক্ষায়, স্নিগ্ধ শীতল বারি ধারার। অরণ্যে বৃক্ষ সকল সজ্জিত হয়েছে নবপল্লবে, শেষ বসন্তে ম্রিয়মান হয়েছে শিমুল,পলাশ। কুটরাজ, রক্তকাঞ্চন, গামারী সজ্জিত করেছে, ধরাতল নতুন করে। এতো রূপ, এতো রঙ, প্রতি বর্ষে আগমন করে সঙ্গে নিয়ে নবীন বার্তা। শেষ বসন্ত অপেক্ষার কাল। বিগত বছরের ব্যর্থতা উপেক্ষা করে তা থেকে শিক্ষা নিয়ে, নবীন বর্ষে সফলতার প্রত্যাশা নিয়ে চলে, অবিরাম অন্তহীন অপেক্ষা।

কর্কটগ্রাম অভিযান ~ অমিত

ছবি
ভ্রমন, সঙ্গীত, লেখালেখি- তিনটি শখের কোনোটিই সেভাবে পূর্ণতা পায়নি। একেবারেই যে ফ্লপ তাও বলা চলে না ঠিকই; তবে দাগ কাটার মতো হয়ে ওঠেনি। ম্যারমেড়ে জীবনের অধিকাংশ সময় কাটছিল সময় নষ্ট করেই! আমরা পাড়ার যে কটা বন্ধু ছিলাম, তারা একসাথে হতাম সন্ধ্যার দিকে দিনু দার চায়ের দোকানে। চায়ের দোকানটি ছিল কলোনির ভেতরে এক বাঁশ বাগানের পাশে বহু পুরোনো এক মিলের ধারে। মাটির ভাড়ে স্পেশাল চা আর দিনু দার হরেক রকমের জমাটি গল্প শুনে আমরা যে যার মতো বাড়ি ফিরতাম রোজ। গুরুতর কোন অসুবিধে না থাকলে কেউই তেমন আড্ডা মিস করতাম না। এক একদিন গল্প, আড্ডা এমন রূপ নিত যে ঘড়ির কাঁটা কখন ১০টা অতিক্রম করে গেছে তা বুঝবার খেয়ালি হতো না। শেষমেশ বাড়ির ফোনে ধমক খেয়ে হুড়মুড়িয়ে ছুটতে হতো। নভেম্বরের শুরুর দিকে, শীত পড়তে শুরু করেছে। গায়ে কম্বল চাপিয়ে হাতে চা কিংবা কফির কাপ নিয়ে, রহস্য-রোমাঞ্চ উপন্যাস পড়ার এর চেয়ে ভালো সময় বোধহয় আর হয় না। তবে দিনু দার গল্পও কম যায় না। যথারীতি যে যার মতো কাজ সেরে সকলে দিনু দার দোকানে হাজির হতাম।  তেমন এক সন্ধ্যায় দিনু দার দোকানে গিয়ে পলাশ বললো, "দিনু দা আজ কি শোনাবে বলো, ভূতুড়ে কিছু না কোনো ...

ভালোবাসার সত্যি ~ ঝুমুর

ছবি
যখন তুই থাকিস আমার সাথে মনের মাঝে আর থাকেনা কিছু। মোহিত হয়ে তোরই কথা শুনি, মন চায় শুধু তোকেই দেখি আমি। হৃদয় মাঝে চুপটি করেই থাক  কেউ যেন আর খুঁজে তোকে না পায়। রাখবো মনে তোকে, জীবন ভর  কিন্তু জানি একদিন হবি পর। তখন হবি অন্য কারো ঘর, তোর বুকে তখন অন্য কারো ঠাঁই আশে পাশে তে আমি কোথাও নাই। আমায় তখন পড়বে না তোর মনে স্বপ্ন পূরণ করবি তখন অন্য কারো সাথে। কাটবে আরও বছর কয়েক, আবার হয়তো কখনো কোনো সময় তোর প্রেয়সীর কোনো কোনো কথায় কিংবা যখন,বাসবি ভালো তাকে। কিংবা যখন কষ্ট পাবি মনে, কোথাও যদি একটুও মিল পাস পড়বে মনে তখন তোর আমায়। আমি তখন থাকবো অনেক দূরে, মনে নিয়ে অনেক অনেক স্মৃতি। স্মৃতি গুলো একান্তই আমার আজন্মকাল আমার হয়েই রবে। জানবে না কেউ এই কথাটা আর ভালবাসাটা শুধুই তখন আমার। তখনও তুই আমার মনেই থাকবি, এটাই হলো এই জীবনের  সত্যি।

"প্রিয় শীত" ~ অমিত

ছবি
প্রতিটা শীত কেনো এতো বিষণ্ণ? শুকনো পাতার মতো তারা চলে যায়, দ্রুত উড়ে যায়... অপেক্ষা না উপেক্ষা? না বুঝতেই নিজেকে হারায়... খামখেয়ালি ভীষণ; মেঘের মতো করে আসা যাওয়া; বোকা শুধু স্মৃতিরা, তারই কেবল থেকে যাওয়া..! আরো কতো কিছু তো থেকে যায়, শুধু প্রিয়জন ছাড়া... নীড়ে না ফেরা পাখির মতোই তারা, যেন দিশেহারা..! কুয়াশার বুক চিড়ে হেঁটেছি কতো, পাইনি খোঁজ.. বোবা প্রতিজ্ঞারা শুধু ভেঙ্গে যায়, দুঃসংবাদ রোজ..! বিচ্ছেদ আসেই বোধহয় এভাবে, দেওয়া নেয়ার গানে.. প্রতিটা শীত মুখ ফেরায় অজানা রোগে, মানে অভিমানে! কিছু ক্ষত সারিয়ে তুলতে ইচ্ছে করে না আর, বারবার.. তবু শীত পেরিয়ে বসন্ত নামুক যেখানে বাস তোমার..! না বলা কথার ইশারা যে কত কি বোঝায়, বোকা আমরা আজও হারাই, পুরোনো মায়ায়..!

"ভালোবাসার মৃত্যু নেই" ~ ঝুমুর

ছবি
নীলাঞ্জনা মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়লো সোফাতে। ওর মাথায় কিছুই আসছে না। শুধু অপলক দৃষ্টি তে তাকিয়ে আছে নীলাদ্রির ছবির দিকে।          নীলাঞ্জনা কে এভাবে বসে থাকতে দেখে রীনাদেবী বললেন তুমি কি কিছুই জানতে না? তোমাকে দেখে মনে হচ্ছে তুমি নীলুর কথাটা প্রথম শুনছো বলেই কেঁদে ফেললেন। ততক্ষনে জয়ন্তবাবু চলে এসেছেন ঘরে। এসে বললেন তুমি কান্নাকাটি করোনা রীনা, ডাক্তার বাবু বলেছেন এতো কান্নাকাটি করলে ওনার কিছু করার থাকবেনা। তুমিও যদি চলে যাও তাহলে আমি কি নিয়ে বাঁচবো বলো। সদ্য হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরে এসেছো, শান্ত হও। নীলাঞ্জনার সঙ্গে আসা রিনিতা এবারে জিজ্ঞেস করলো আচ্ছা কাকু ঘটনাটা কবে ঘটেছে? জয়ন্ত বাবু বললেন বলছি সব তোমার বান্ধবী কে একটু জল দাও, শান্ত হয়ে বসো সব বলছি আর তোমাদের কথাও শুনছি। রিনিতা নীলাঞ্জনার দিকে জলের বোতল এগিয়ে দিয়ে বললো নে জল খা একটু তারপর সব বল কাকু কাকিমাকে। নীলাঞ্জনা মুখে কিছু বলেনা হাতে বোতলটা নেয় কিন্তূ জল খেতে পারেনা কেঁদে ফেলে রিনিতা কে জড়িয়ে ধরে। জয়ন্ত বাবু এসব দেখে নিজেও কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েছেন। কাকে সামলাবেন, রীনাদেবীকে, নীলাঞ্জনা কে নাকি নিজ...

"ভিক্টরিয়া" ~ অমিত চাকী

ছবি
  অভিজ্ঞতা সকলেরই হয়ে থাকে, আমারো তার ব্যতিক্রম নয়। সেবার  প্রথম  কলকাতা,  স্বাভাবিক ভাবেই এক্সাইটেড। দিন পাঁচেক থাকতে হয়েছিল। আমরা ছিলাম কুইন্স ওয়েতে। কাজেই কাছেই যে ভিক্টরিয়া মেমোরিয়াল হল, সে বিষয়ে অবগত ছিলাম। আর সেখানেই অতর্কিতে ঘটা এক ঘটনা  আমাকে পুরোপুরি নির্বাক করে দেয়, এখন যখনই সেই কথা মনে পড়ে স্তম্ভিত হই।  তখন গ্রীষ্মকাল, প্রচন্ড দাবদাহ, গরমে নাজেহাল। তবে উপায় নেই কাজে যেতে হবে। শহরের উত্তপ্ত পথ ধরে হাঁটছিলাম, চারিদিকে রুক্ষতা খাঁ খাঁ করছিলো। একটু যেতেই হাঁটার গতি মন্থর হলো, খানিক দূরে সমস্ত রুগ্নতার শাসানিকে উপেক্ষা করেই স্বমহিমায় বিরাজ করছিল ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল হল। আকার, আয়তন, শৈল্পিক কাজ  সবটাই অনবদ্য । রানী ভিক্টোরিয়ার স্মৃতিতে এই প্রাসাদপ্ৰম অট্টালিকা, যা  তৈরির  দায়িত্বে ছিলেন স্যার উইলিয়াম ইমারসন, যিনি খোদ রয়্যাল ইনস্টিটিউট অফ ব্রিটিশ আর্কিটেক্ট এর প্রেসিডেন্টও ছিলেন। তবে বর্তমানে সেটি এখন মিউজিয়াম, যেখানে সংগ্রহে আছে তিরিশ হাজারেরও উপরে নানান সামগ্রী। সামনে দাঁড়িয়ে মাথা উঁচু করে গোটা প্রাসাদটি একবার দেখলাম; মনে...

"ঝঞ্ঝাট" ~ অমিত চাকী

ছবি
পাড়ার অলিগলি থেকে শুরু করে যত রাজ্যের পলিটিক্স শেষ করে এবার ভারত-চীন নিয়ে তর্ক তুঙ্গে উঠেছে। এমন সময় ঘচাং করে ট্রেনটা থামলো। সিগারেটখোর ভদ্র লোকটি টাল সামলাতে না পেরে হুমড়ি খেয়ে পড়লো ঝালমুড়ি বিক্রেতার ঘাড়ে। ঝালমুড়ি বিক্রেতাও অস্বস্তির সাথে সজোরে এক ধাক্কা মারাতে সিগারেটখোর লোকটি আবার যথাস্থানে ফিরে এলো। ধীরে সুস্থে হাই তুলতে তুলতে ট্রেন থেকে নামলাম। স্টেশনে অসম্ভব ভিড়। ভিড় ঠেলে রীতিমতো যুদ্ধ শেষ করে ফাঁকা রাস্তায় এসে উঠলাম। ঘেমে পুরো ঝোল। অসহ্য ও অস্থির করা গরমে একদম নাজেহাল করা অবস্থা। আপন মনে হাঁটছি। চোখ দুটো যেন বন্ধ হয়ে আসছিল। নিচের দিকে তাকিয়ে প্যান্টটা ঠিক করতেই নজরে এলো জামার একটা বোতাম ছিঁড়েছে। হঠাৎ পেছন থেকে ডাক, " ও মশাই আপনি তো ট্রেনের সেই নির্বাক যাত্রীটি মনে হচ্ছে, এবাবা বোতামও ছিঁড়ে ফেলেছেন দেখছি। তা এদিকে কোথায় যাওয়া হচ্ছে?" লোকটি একটি সিগারেট ধরিয়ে দু-তিনটি রিং ছাড়তে ছাড়তে একথা বললো। আমি তো দেখেই অবাক; এ তো ট্রেনের সেই সিগারেটখোর লোকটি। চোখ দুটো একটু কচলিয়ে বললাম, "আমি তো মশাই আমার বাড়ি ফিরছি, আপনি...?" ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে সে বলল, "আমার এক দুঃস...